আধুনিক যুদ্ধের ধরন যেমন বদলাচ্ছে, তেমনই বাড়ছে Hybrid Threat বা মিশ্র হুমকি। এই প্রেক্ষাপটে Defence Research and Development Organisation (DRDO) এবার তাদের গবেষণা ও উন্নয়নের কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে। লক্ষ্য – ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত আধিপত্য বজায় রাখা ও স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে, DRDO-এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ₹23,855.61 কোটি টাকা, যা ভারতের মোট প্রতিরক্ষা বাজেটের ৫.২৫%। এই অর্থের একটি বড় অংশ যাবে অভ্যন্তরীণ গবেষণা, আর একটি অংশ বেসরকারি শিল্পের সঙ্গে যৌথভাবে উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগে।
এই বছর ৮টি বিশেষ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিচ্ছে DRDO
DRDO এবার ৮টি গভীর ও উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি খাতে বেশি জোর দিচ্ছে, যেগুলি ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বেসরকারি শিল্প সচরাচর বিনিয়োগ করে না —
- Artificial Intelligence (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)
- Cognitive Technology (কগনিটিভ টেকনোলজি)
- Quantum Technology (কোয়ান্টাম টেকনোলজি)
- Neuromorphic Computing (নিওরোমরফিক কম্পিউটিং)
- Military Cyber Technology (সামরিক সাইবার প্রযুক্তি)
- Advanced Materials (অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস)
- Compound Semiconductors (কম্পাউন্ড সেমিকন্ডাক্টর)
- Intelligence, Surveillance and Reconnaissance (ISR) Technologies (গোয়েন্দা, নজরদারি এবং রিকনেসান্স প্রযুক্তি)
এই ক্ষেত্রগুলি আগামী দিনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের যুদ্ধ প্ল্যাটফর্মকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী করবে।
বেসরকারি হাতে ১৮৩টি সামরিক সিস্টেম উন্নয়নের দায়িত্ব
হাই রিস্ক গবেষণায় মনোযোগ দিতে DRDO ১৮৩টি সামরিক সিস্টেম বেসরকারি শিল্পের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। এতে DRDO-এর খরচ কমবে, আর সংস্থা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করবে।
নতুন উন্নয়ন মডেল ও প্রকল্প
- Technology Development Fund (TDF): MSME, স্টার্ট-আপ, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নে ৯০% পর্যন্ত অর্থসাহায্য (প্রতি প্রকল্পে সর্বোচ্চ ₹৫০ কোটি)। এখন পর্যন্ত ৭০+ প্রকল্পে অর্থায়ন হয়েছে এবং ১৬টি নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে।
- Development-Cum-Production Partner (DcPP): উন্নয়ন পর্যায় থেকেই শিল্পকে যুক্ত করে সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে সংযোগ। এই মডেল সফল হয়েছে VL-SRSAM ও ATAGS-এর মতো প্রকল্পে।
- DRDO-Industry-Academia Centres of Excellence (DIA-CoE): শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫টি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স, যেখানে একসঙ্গে কাজ করছেন DRDO-র বিজ্ঞানী, স্টার্ট-আপ ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি গবেষণা ক্ষেত্র বেড়েছে ৮২টি ভের্টিক্যাল-এ।
কমিটির পর্যবেক্ষণ
আধুনিক যুদ্ধে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি, কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক চ্যালেঞ্জের গুরুত্ব বাড়ছে। তাই DRDO-কে শুধু প্রতিরোধ নয়, বরং আগে থেকেই সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দের সময় অতিরিক্ত অর্থও দেওয়া উচিত।
DRDO-র এই নতুন কৌশল বিশেষ প্রযুক্তিতে ফোকাস, শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা, এবং লক্ষ্যভিত্তিক অর্থায়ন, ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।