নিসার মিশন-এর সফল উৎক্ষেপণের পর ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO এবার একের পর এক বড় মিশনের পরিকল্পনা করছে। ইসরোর নতুন চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন, বর্তমান অর্থবর্ষ অর্থাৎ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মিশন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সবচেয়ে আগে যে মিশনটি সামনে আসছে তা হল LVM3-M5, যার মাধ্যমে CMS-02 নামক এক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্যাটেলাইট কক্ষপথে ছাড়া হবে। তার পরেই রয়েছে PSLV-C62 মিশন, যেখানে একটি ইউজার ফান্ডেড স্যাটেলাইট লঞ্চ হবে।
সবচেয়ে আলোচিত একটি মিশন হচ্ছে PSLV-N1, যা ভারতের Hindustan Aeronautics Limited (HAL) এবং Larsen & Toubro (L&T) এর তৈরি, প্রাইভেট ভাবে নির্মিত প্রথম PSLV রকেট। এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, কারণ এটি দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগ।
PSLV-N1 রকেট বহন করবে Technology Demonstration Satellite-1 (TDS-1), যা ৩০টিরও বেশি আধুনিক প্রযুক্তি, যেমন ইলেকট্রিক প্রপালশন, কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন, দেশীয় পারমাণবিক ঘড়ি ইত্যাদি পরীক্ষামূলকভাবে প্রদর্শন করবে।
এছাড়াও ইসরো প্রস্তুতি নিচ্ছে GSLV-F17 মিশনের, যেখানে NVS-03 নামের একটি ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানো হবে।
একটি বিশেষ মিশন হল BlueBird Block-2, যা একটি ৬৫০০ কেজির আমেরিকান বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট এবং এটি উৎক্ষেপণ করা হবে LVM3-M5 রকেটের মাধ্যমে। লক্ষ্য, বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ পরিষেবা-তে নতুন দিগন্ত মেলে ধরা।
অন্যান্য আসন্ন মিশনের মধ্যে রয়েছে —
- PSLV-C63: OceanSat-3A স্যাটেলাইটের জন্য
- GSLV-F18: GSAT-1A উৎক্ষেপণের জন্য
- একাধিক SSLV (Small Satellite Launch Vehicle) মিশনও পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে
এই সব মিশনের সময়সূচি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সাথে কথা বলে চূড়ান্ত করা হবে।
ইসরোর এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য আগামী তিন বছরের মধ্যে ভারতের মহাকাশে বিদ্যমান স্যাটেলাইট সংখ্যা তিনগুণ করা, মানব মহাকাশযাত্রা, ২০২৮ সালের মধ্যে নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরি এবং জাপানের সাথে যৌথ চন্দ্রাভিযান Chandrayaan-5/LUPEX মিশন সম্পন্ন করা।
ভারতের এই উচ্চাভিলাষী মহাকাশ গবেষণা এখন গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে এবং স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ISRO এখন আর শুধুমাত্র একটি গবেষণা সংস্থা নয়, বরং গ্লোবাল স্পেস টেকনোলজির এক অন্যতম শক্তি।