ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla) বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS)-এ অবস্থান করছেন, আর খুব শীঘ্রই, ১৪ জুলাই, তিনি পৃথিবীতে ফিরে আসছেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে Axiom Space। শুক্লা সহ আরও তিনজন মহাকাশচারী – আমেরিকার পেগি হুইটসন, পোল্যান্ডের স্লাওয়োজ উজনানস্কি-উইশনিউস্কি এবং হাঙ্গেরির তিবোর কাপু; একসাথে SpaceX Dragon মহাকাশযানে করে Harmony module থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন।
Axiom Space তাদের X অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে,
“#Ax4 ক্রু দল ১৪ জুলাই সোমবার, ভারতীয় সময় বিকেল ৪:৩৫টায় স্পেস স্টেশন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।”
বিচ্ছিন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই প্যাসিফিক মহাসাগরের উপকূলে, ক্যালিফোর্নিয়া সংলগ্ন এলাকায় স্প্ল্যাশডাউন মানে সমুদ্রপৃষ্ঠে অবতরণ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
NASA Commercial Crew Program-এর ম্যানেজার স্টিভ স্টিচ জানিয়েছেন,
“আমরা Axiom-4 মিশনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ১৪ জুলাইয়ের দিকে লক্ষ্য রেখে উড়ানটি বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা চলছে।”
শুক্লার এই ১৪ দিনের মিশন ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তিনি ISS-এ যাওয়া প্রথম ভারতীয়, এবং ১৯৮৪ সালে মহাকাশে যাওয়া উইং কমান্ডার রাকেশ শর্মা-র পর দ্বিতীয় ভারতীয় মহাকাশচারী।
এই অভিযানে তিনি ভারত-কেন্দ্রিক সাতটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন, যা গগনযান (Gaganyaan) মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার পরীক্ষার মধ্যে ছিল:
- মহাকাশে মানব পেশীর ক্ষয় নিয়ে গবেষণা,
- ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস তৈরি,
- এবং মুগ ও মেথি বীজ অঙ্কুরিত করার চেষ্টাও।
শুধু তাই নয়, মহাকাশ থেকে কেরালা ও লখনউয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথাও বলেন শুভাংশু। ছাত্রছাত্রীরা জানার চেষ্টা করে — মহাকাশে কি খাওয়া হয়, কিভাবে ঘুমানো হয়, অসুস্থ হলে কি হয় ইত্যাদি। উত্তরে শুক্লা বলেন,
“মহাকাশে মজার ব্যাপার হল, ওখানে মেঝে বা ছাদ কিছুই নেই। আপনি ISS-এ গেলে দেখবেন কেউ হয়তো দেওয়ালে ঘুমাচ্ছেন, কেউ ছাদে!”
তিনি Axiom Mission 4-এর লঞ্চ মুহূর্তকে “amazing” ও “dynamic” বলেও বর্ণনা করেন।
এই ঐতিহাসিক মিশন শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। ১৪ জুলাই’র দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ, দেশে ফিরছেন আমাদের আকাশ জয়ী সাহসি, শুভাংশু শুক্লা।