বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেক জায়ান্ট Amazon তাদের কর্মীদের জন্য একটি কঠোর নির্দেশ জারি করেছে, যা টেক জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সংস্থাটি তাদের প্রায় ৩.৫ লক্ষ কর্পোরেট কর্মীকে বলেছে, তারা যেন সংস্থার প্রধান কার্যালয়গুলোর কাছাকাছি শহরে—যেমন Seattle, Arlington (Virginia) অথবা Washington, D.C.—৩০ দিনের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়। যদি তারা এই নির্দেশ মানতে না পারে, তবে তাদের ৬০ দিনের মধ্যে কোনো বেতন (Severance pay) ছাড়াই ইস্তফা দিতে হবে।
কেন এই নির্দেশ?
Amazon-এর এই পদক্ষেপ তাদের “রিটার্ন টু অফিস” (RTO) নীতির একটি অংশ। ইতিমধ্যেই সংস্থাটি তাদের কর্মীদের সপ্তাহে তিন দিন অফিসে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু অনেক কর্মী এখনও বাড়িতে বসে বা অফিসে না এসেই কাজ করে চলেছেন। এই নতুন নির্দেশের মাধ্যমে Amazon তাদের কর্মীদের একসাথে, এক জায়গায় কাজ করার জন্য বাধ্য করছে, যাতে দলগত সহযোগিতা আরও কার্যকর হয়। তবে, এই পদক্ষেপের পেছনে আরও কিছু কারণ থাকতে পারে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি হতে পারে সংস্থার খরচ কমানোর একটি কৌশল, যার মাধ্যমে তারা স্বেচ্ছায় ইস্তফার মাধ্যমে কর্মী সংখ্যা কমাতে চাইছে।
Amazon-এর CEO অ্যান্ডি জ্যাসি ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অটোমেশনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কিছু কাজের প্রয়োজনীয়তা কমে যেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, এই অফিসে ফিরিয়ে আনার নীতি কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কর্মীদের উপর প্রভাব
এই নির্দেশের ফলে কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে Mid-career professionals এবং যাদের সন্তান বা স্থায়ী জীবনযাত্রা রয়েছে, তাদের জন্য এই স্থানান্তর বা Relocation অত্যন্ত কঠিন। অনেকে এই নির্দেশকে অন্যায় বলে মনে করছেন, কারণ স্থানান্তর না করার ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক সহায়তা বা বেতন দেওয়া হবে না। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং অনেকে মনে করছেন এটি কর্মীদের মনোবলের উপর খারাপ প্রভাব ফেলবে।
Amazon-এর এই পদক্ষেপ টেক ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বড় প্রশ্ন তুলেছে। Google এবং Meta-র মতো অন্যান্য টেক সংস্থাগুলোও তাদের অফিসে এসে কাজ করার নিয়ম চালু করছে, তবে Amazon-এর এই স্কেল এবং বেতন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এটিকে আরও আলোচনার বিষয় করে তুলেছে।
এটি প্রথমবার নয় যে Amazon কর্মীদের উপর কঠোর সিদ্ধান্ত চাপিয়েছে। ২০২২ সালে, সংস্থাটি ২৭,০০০ কর্পোরেট চাকরি বাতিল করেছিল, যা ছিল তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই। এরপর থেকে আরও কিছু ছোট পরিসরে ছাঁটাই হয়েছে। অনেক কর্মী মনে করছেন, এই স্থানান্তর নীতি হতে পারে সরাসরি ছাঁটাই ছাড়াই কর্মী সংখ্যা কমানোর একটি উপায়।