ট্রাম্প মোবাইল যখন তাদের নতুন স্মার্টফোন T1 লঞ্চের ঘোষণা করেছিল, তখন থেকেই এটি ছিল চর্চার কেন্দ্রে। কারণ এটি ছিল একেবারে ‘Made in America’ ব্র্যান্ডিংয়ের প্রতীক। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই দাবির পেছনে এক বড়সড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এখন আর ট্রাম্প মোবাইল তাদের ওয়েবসাইটে এই ফোনকে আমেরিকায় তৈরি বলছে না; বরং বলছে এটি ‘Proudly American’, অর্থাৎ আমেরিকান গর্বের ডিজাইন।
প্রাথমিক দাবি ছিল কী?
T1 ফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হয়েছিল গত সপ্তাহে। এর দাম রাখা হয়েছে মাত্র $499। ট্রাম্প মোবাইল দাবি করেছিল, এই স্মার্টফোনটি পুরোপুরি আমেরিকায় ডিজাইন এবং তৈরি। যা ছিল প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সেই প্রচারের সঙ্গেই মানানসই, যেখানে তিনি প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে বারবার মার্কিন উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কিন্তু ‘Made in America’ সরানো হলো কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আধুনিক স্মার্টফোন পুরোপুরি আমেরিকায় তৈরি করা ভীষণ ব্যয়বহুল এবং জটিল কাজ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, Purism সংস্থা তাদের ফোন আমেরিকায় বানাতে গিয়ে দাম তুলেছিল প্রায় $2000। সেখানে T1 ফোন যদি সত্যিই $499-এ আসে, তাহলে তা আমেরিকায় তৈরি হওয়া অবাস্তব। অনেকেই সন্দেহ করছেন, এই ফোনটির উৎপাদন আসলে চিনে হচ্ছে। যদিও ট্রাম্প মোবাইল এ বিষয়ে এখনো কোনো সাফাই দেয়নি।
স্পেসিফিকেশনেও এসেছে পরিবর্তন
প্রথমে বলা হয়েছিল, ফোনটিতে থাকবে 6.78-inch AMOLED স্ক্রিন এবং 12GB RAM। কিন্তু এখন ওয়েবসাইট বলছে স্ক্রিন সাইজ হবে 6.25-inch, আর RAM-এর উল্লেখই নেই! এছাড়াও, ফোনটি আগে সেপ্টেম্বরে লঞ্চ হওয়ার কথা থাকলেও এখন বলা হচ্ছে ‘বছরের শেষে’ বাজারে আসবে।
এর পেছনে আসল কারণ কী?
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প মোবাইল তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে সমস্যায় পড়েছে। আমেরিকায় স্মার্টফোন তৈরি করতে বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সাপ্লাই চেইন ও কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন। এই পর্যায়ে হয়ত চিনের মত উৎপাদনক্ষম দেশের উপর নির্ভর করতেই হয়েছে।
এই পরিবর্তনে অনেকেই হতাশ, বিশেষ করে যারা আমেরিকান উৎপাদনের উপর ভরসা করেছিলেন। তবে এখনো ফোনটির ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিং-এ ট্রাম্পের ‘আমেরিকান ভ্যালু’ তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। ফলে ট্রাম্প সমর্থকদের কাছে এটি জনপ্রিয় হতে পারে।
ট্রাম্প মোবাইল T1 ফোন নিয়ে শুরু হওয়া উত্তেজনা এখন কিছুটা দমে গেছে। ‘Made in America’ দাবির পিছু হটা ও স্পেসিফিকেশন বদল মার্কিনবাসীদের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ফোনটি বাজারে কতটা সফল হয়, তা নির্ভর করবে এর আসল পারফরম্যান্স ও প্রতিযোগিতামূলক বৈশিষ্ট্যের উপর। তবে এটা স্পষ্ট, প্রযুক্তি জগতে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু তা বজায় রাখা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।