আয়কর রিটার্ন (আইটিআর) দাখিলের ক্ষেত্রে এবার আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের আয়কর বিভাগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি কেউ ভুল তথ্য দিয়ে কর ছাড়ের দাবি করেন বা আয় লুকানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁকে ২০০ শতাংশ জরিমানা করা হতে পারে, এমনকি জেল পর্যন্ত হতে পারে। এই নিয়ম সব ধরনের করদাতার জন্য প্রযোজ্য। তাই এবার আইটিআর দাখিলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
কেন এত কঠোর নিয়ম?
আয়কর বিভাগের তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৯০,০০০ চাকরিজীবী ভুয়ো কর ছাড় দাবি করে সরকারের কোষাগার থেকে ১,০৭০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি করেছেন। এই ধরনের জালিয়াতি রুখতে আয়কর বিভাগ নতুন নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে প্রতিটি দাবির জন্য সঠিক প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। যদি আপনার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) বা পরামর্শদাতা ভুল করেন, তবুও আপনি মুক্তি পাবেন না। আইন অনুযায়ী, রিটার্নে নাম যার, দায়িত্বও তার।
নতুন নিয়মে কী কী পরিবর্তন?
১. বিস্তারিত প্রমাণ জমা দিতে হবে:
-
সেকশন ৮০সি: এলআইসি, পিপিএফ, ইএলএসএস-এর মতো বিনিয়োগের জন্য পলিসি নম্বর বা ডকুমেন্ট আইডি দিতে হবে।
-
সেকশন ৮০ডি: স্বাস্থ্য বীমার জন্য বীমা কোম্পানির নাম এবং পলিসি নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
-
গৃহঋণ বা শিক্ষা ঋণ: ঋণদাতার নাম, ঋণের অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং অনুমোদনের তারিখ জমা দিতে হবে।
-
ইলেকট্রিক গাড়ির ছাড়: সেকশন ৮০ইইবি-র অধীনে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে।
২. এআইএস/টিআইএস-এর সঙ্গে তথ্য মেলানো:
আয়কর বিভাগ এখন অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট (এআইএস) এবং ফর্ম ২৬এএস-এর তথ্যের সঙ্গে আপনার রিটার্ন মিলিয়ে দেখবে। কোনো অমিল পাওয়া গেলে নোটিস জারি হতে পারে।
৩. ভুল তথ্যে কঠোর শাস্তি:
-
ভুল রিপোর্টিং: আয় লুকানো বা ভুয়ো দাবির জন্য ২০০% জরিমানা এবং বছরে ২৪% সুদ।
-
আইনি পদক্ষেপ: সেকশন ২৭৬সি-র অধীনে ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকি দিলে ৩ মাস থেকে ৭ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
-
সংশোধিত রিটার্নে ছাড় নেই: ভুল তথ্য ধরা পড়লে সংশোধিত রিটার্ন জমা দিয়েও শাস্তি এড়ানো যাবে না।
সঠিক ফর্ম বেছে নিন
আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য সঠিক ফর্ম নির্বাচন করা খুবই জরুরি। ভুল ফর্ম বেছে নিলে রিটার্ন বাতিল হতে পারে। এখানে বিভিন্ন ফর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হল:
-
আইটিআর-১ (সহজ): বেতনভোগী বা পেনশনভোগীদের জন্য, যাঁদের আয় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত।
-
আইটিআর-২: যাঁদের আয় ৫০ লাখ টাকার বেশি বা একাধিক সম্পত্তি, পুঁজি লাভ ইত্যাদি থাকে।
-
আইটিআর-৩: ব্যবসায়ী বা পেশাদারদের জন্য।
-
আইটিআর-৪ (সুগম): ছোট ব্যবসায়ী বা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য, যাঁরা সরল কর ব্যবস্থায় আছেন।
-
আইটিআর-৫, ৬, ৭: ফার্ম, কোম্পানি, ট্রাস্ট বা প্রতিষ্ঠানের জন্য।
কীভাবে নিরাপদে রিটার্ন দাখিল করবেন?
১. সঠিক তথ্য দিন: আপনার আয়, বিনিয়োগ এবং ছাড়ের তথ্য এআইএস এবং ফর্ম ২৬এএস-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
২. প্রমাণ সংরক্ষণ করুন: সমস্ত বিনিয়োগ, ঋণ, বা বীমার কাগজপত্র কমপক্ষে ৬ বছর রাখুন।
৩. সময়মতো দাখিল করুন: শেষ তারিখের অপেক্ষা না করে তাড়াতাড়ি রিটার্ন জমা দিন।
৪. পরামর্শ নিন: জটিলতা এড়াতে কোনো বিশ্বস্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সঙ্গে কথা বলুন।
২. প্রমাণ সংরক্ষণ করুন: সমস্ত বিনিয়োগ, ঋণ, বা বীমার কাগজপত্র কমপক্ষে ৬ বছর রাখুন।
৩. সময়মতো দাখিল করুন: শেষ তারিখের অপেক্ষা না করে তাড়াতাড়ি রিটার্ন জমা দিন।
৪. পরামর্শ নিন: জটিলতা এড়াতে কোনো বিশ্বস্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সঙ্গে কথা বলুন।
কেন এত জরুরি এই নিয়ম মেনে চলা?
আয়কর বিভাগের নতুন নিয়ম এবং ডিজিটাল ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভুয়ো দাবি ধরা এখন অনেক সহজ। তাই একটু অসতর্কতাও আপনাকে বড় সমস্যায় ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি ৫০,০০০ টাকার কর ফাঁকি দেন, তাহলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, সুদ এবং আইনি ঝামেলার মুখোমুখি হতে হতে পারেন।