ভারতীয় সেনাবাহিনী এবার প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল। AI (Artificial Intelligence) প্রযুক্তিতে চালিত Negev Light Machine Gun (LMG)-এর সফল পরীক্ষা সম্প্রতি সেনার পক্ষ থেকে সম্পন্ন হয়েছে। BSS Material Limited, দেহরাদুনের একটি প্রতিরক্ষা সংস্থা, এই অত্যাধুনিক অস্ত্রের উন্নয়নে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে।
এই AI-Negev LMG এর পরীক্ষাটি হয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪,০০০ ফুট উচ্চতায়, কঠিন আবহাওয়া ও অক্সিজেনের অভাবে পরিপূর্ণ একটি পাহাড়ি এলাকায়। সেখানে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছে এই অস্ত্র – যা একাধারে প্রযুক্তির জয় এবং ভারতের আত্মনির্ভরতার প্রতীক।
AI-Negev LMG-এর বিশেষত্ব
এই Negev LMG-তে আছে একটি উন্নত Multi-Sensor AI Module, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রু শনাক্ত করতে পারে, Friend-Foe Detection করতে সক্ষম এবং রিয়েল টাইমে আক্রমণ চালাতে পারে। এতে আছে:
- Thermal ও Optical Sensor Fusion – অন্ধকার বা ধোঁয়াশা থাকলেও নিশানা ঠিক রাখতে সক্ষম।
- GPS, Magnetometer, Inclinometer, Laser Rangefinder – নিখুঁত নিশানা এবং সঠিক দূরত্ব পরিমাপের জন্য।
- Modular Design – অর্থাৎ এই অস্ত্র সহজেই Tripod, Remote Weapon Station, এমনকি Anti-Drone System বা স্থায়ী স্থাপনায় ব্যবহার করা যায়।
সীমান্তে ব্যবহার
উত্তর-পূর্ব ভারতের দুর্গম অঞ্চল, বিশেষত Ladakh ও Arunachal Pradesh-এ এই অস্ত্র সেনাবাহিনীকে নতুনভাবে শক্তিশালী করবে। চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই প্রযুক্তি সৈন্যদের জীবন রক্ষা ও দূর থেকে আক্রমণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে।
২০২০ সালে ভারত Israel Weapon Industries (IWI)-এর কাছ থেকে $118 million দামে 16,479 Negev NG-7 LMG কিনেছিল। সেগুলি ২০২১-এ সরবরাহ হয়। এবার সেই অস্ত্রই আরও আধুনিক হল ভারতীয় প্রযুক্তির সংযোজনে।
এটা শুধু ‘Make in India’ উদ্যোগের সফলতা নয়, বরং ‘Atmanirbhar Bharat’-এর বাস্তব রূপ। দেরাদুনের BSS Material Limited জানিয়েছে, এই AI Module সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি, এবং ভবিষ্যতে আরও অস্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা যাবে।
‘Operation Sindoor’-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতা
মে ২০২৫-এ ‘Operation Sindoor’-এর মাধ্যমে ভারতের তৈরি অস্ত্র পাকিস্তানের তুলনায় অধিক কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছিল। এই নতুন AI-Negev LMG সেই সাফল্যকেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
এই Negev LMG কেবল একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষার ভবিষ্যৎ। এমন উদ্ভাবন আগামী দিনে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিশ্ব মানচিত্রে শীর্ষ স্থানে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।