টেক দুনিয়ায় নতুন ঝড় তুললেন Nothing-এর CEO কার্ল পেই (Carl Pei) । Wired Magazine-এ দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি Apple-এর সমালোচনা করে বলেন, একসময় যে সংস্থা উদ্ভাবনের জন্য পরিচিত ছিল, আজ তারা কেবল বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যাদের কাজে আর ক্রিয়েটিভিটি নেই।
কার্ল পেই বলেন, “ছোটবেলায় আমি যখন iPod আর প্রথম iPhone দেখি, ওগুলো আমায় দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেখান থেকেই এই প্রযুক্তির দুনিয়ায় আসা। কিন্তু আজ Apple তার সেই ক্রিয়েটিভিটি হারিয়ে ফেলেছে। এখন তারা শুধু ব্যবসা বোঝে।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান, Apple Intelligence-এর মতো বর্তমান সময়ের আবিস্কার গুলিকে তিনি তেমন আকর্ষণীয় বলে মনে করেন না।
পেই-র মতে, ভবিষ্যতের স্মার্টফোনে আলাদা করে অ্যাপ থাকবে না। বরং ফোনের Operating System (OS) নিজেই একটি সুপার-অ্যাপ হিসেবে কাজ করবে। সেটা এতটাই বুদ্ধিমান হবে যে ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয়তা নিজে থেকেই বুঝে নিয়ে কাজ করবে, কোনও নির্দেশ দেওয়ার দরকার হবে না। যদিও তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, এই পরিবর্তন আসতে এখনও কমপক্ষে 7-10 বছর সময় লাগবে।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত Nothing সংস্থা ইতিমধ্যেই তাদের Phone (3a) মডেলের মাধ্যমে প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। এই ফোনে আছে Essential Space নামে একটি AI-চালিত ফিচার, যা ব্যবহারকারীর ব্যবহারের ধরণ বুঝে ফোনের ইন্টারফেসকে সাজিয়ে তোলে। এটি তাদের ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গির প্রথম ধাপ বলে জানিয়েছেন পেই।
পেই-এর এই মন্তব্যে টেক জগতে আলোড়ন পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সত্যিই কি Apple তার উদ্ভাবনী ক্ষমতা হারিয়েছে? একদিকে যেখানে Apple ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে গ্লোবাল মার্কেটে ১৯% শেয়ার নিয়ে শীর্ষস্থানে, সেখানে পেই-এর মন্তব্য কি শুধুই প্রতিযোগিতামূলক হাইপ তৈরি করার কৌশল?
Nothing-এর এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি স্মার্টফোন প্রযুক্তিকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে প্রতিটি কাজ হবে স্বয়ংক্রিয়, ব্যবহারকারীর মন বুঝে ফেলা একমাত্র অ্যাপের উপর ভিত্তি করে। কিন্তু সত্যিই কি আমরা সেই ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছি? নাকি এটি শুধুই একটা ধারণা মাত্র?
উত্তর দেবে সময়, তবে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে।