টেক ডেস্কঃ ভারত তার উত্তরাঞ্চলের অব্যবহৃত বিমানঘাঁটিগুলিকে দীর্ঘ পাল্লার ড্রোন অভিযানের (long-range UAV ops) জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ঘাঁটিতে রূপান্তরিত করার কৌশলগত পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য একটি বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যা পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে অস্থির সীমান্ত বরাবর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি ও হামলার ক্ষমতা নিশ্চিত করবে, এমনকি যদি প্রাথমিক বিমানঘাঁটিগুলি আক্রমণের শিকার হয়। আধুনিক দীর্ঘ পাল্লার ড্রোন, যেমন হাই অ্যালটিটিউড লং এন্ডুরেন্স (HALE) সিস্টেম এবং ভারী লয়টারিং যুদ্ধাস্ত্র, প্রচলিত রানওয়ে এবং ব্যাপক স্থল সহায়তার উপর নির্ভরশীল।
এই সম্পদগুলিকে বিভিন্ন দ্বিতীয় সারির বিমানঘাঁটিতে ছড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল সক্ষমতা তৈরি করছে, যা শত্রুপক্ষের জন্য ভারতের চালকবিহীন বিমানগুলিকে স্থলভাগে লক্ষ্য করা কঠিন করে তুলবে। এই উদ্যোগটি ভারতের সামগ্রিক সামরিক পরিকাঠামো বৃদ্ধির বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মুধ-নিওমা বিমানঘাঁটির উন্নয়ন এবং মীরাটে ডেডিকেটেড সামরিক ড্রোন ঘাঁটির মতো দৃষ্টান্তগুলি এই কৌশলের প্রমাণ। গোরক্ষপুর ও সরসাওয়ার মতো বিদ্যমান বিমানঘাঁটিগুলিও দীর্ঘ পাল্লার ড্রোন মোতায়েনের জন্য আদর্শ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নজরদারি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং দীর্ঘ পাল্লার হামলার জন্য চালকবিহীন ব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে ওঠায়, এই সম্পদগুলিকে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইউএভি যন্ত্রাংশ উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতার ওপর বারবার জোর দিয়েছেন। এই পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ভারতের ক্রমবর্ধমান ড্রোন বহরকে সুরক্ষিত, স্থিতিস্থাপক এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখবে, যা জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করবে।