টেক ডেস্কঃ বহুজাতিক ‘তরঙ্গ শক্তি-২০২৬’ মহড়ার সময় ভারতীয় বায়ুসেনার কর্মীদের মার্কিন F-35 স্টিলথ যুদ্ধবিমানের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি বলে খবর। ভারতের হাতে থাকা রাশিয়ার তৈরি S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, যা উন্নত পশ্চিমা বিমানের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং-এর এই তথ্য প্রকাশে বিষয়টি সামনে আসে।
এই S-400 F-35 concerns-এর মূলে রয়েছে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ। আমেরিকার আশঙ্কা, S-400 ট্রায়াম্ফ-এর অত্যাধুনিক রাডার নেটওয়ার্ক F-35-এর রাডার সিগনেচার এবং স্টিলথ কার্যকারিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এই ধরনের গোপনীয় তথ্য ফাঁস হলে তা রাশিয়ার কাজে লাগতে পারে এবং F-35-এর ‘লো-অবজারভেবল’ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির অন্যতম সুরক্ষিত রহস্য।
এই ঘটনা তুরস্কের সঙ্গে F-35 কর্মসূচি নিয়ে বিতর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন S-400 কেনার পর তুরস্ককে F-35 প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, দুটি সিস্টেম একই সঙ্গে পরিচালনা করলে তা অগ্রহণযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, S-400 রাডার দ্বারা বারবার ট্র্যাকিং শত্রুদের F-35-এর বিরুদ্ধে উন্নত প্রতি-স্টিলথ কৌশল তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে।
এই আপত্তি সত্ত্বেও, ভারত তার স্তরিত বায়ু প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে S-400-কে ব্যবহার করে চলেছে। এই সিস্টেমটিকে অন্যতম সক্ষম দীর্ঘ পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্ল্যাটফর্ম হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ‘তরঙ্গ শক্তি-২০২৬’ মহড়ার ঘটনাটি বৈশ্বিক ক্ষমতাগুলির কাছ থেকে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং মার্কিন সামরিক সম্পদের কঠোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশগুলির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলিকে তুলে ধরে।