টেক ডেস্কঃ ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি TRISHNA স্যাটেলাইট মিশন এখন উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী ১২ থেকে ১৬ মাসের মধ্যেই এই অত্যাধুনিক স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এটি ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে তৃতীয় যৌথ উদ্যোগ, যা এক দশকের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ফল। TRISHNA স্যাটেলাইট বিশ্বজুড়ে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই স্যাটেলাইটটি দৃশ্যমান, শর্ট-ওয়েভ ইনফ্রারেড এবং থার্মাল ইনফ্রারেড তরঙ্গদৈর্ঘ্যে পৃথিবীর উচ্চ-রেজোলিউশনের তথ্য সরবরাহ করবে। এর মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, নির্গমন ক্ষমতা, বিকিরণ পরিবর্তনশীলতা এবং জৈব-ভৌত পরামিতি সম্পর্কে অভূতপূর্ব তথ্য পাওয়া যাবে। জল সংকট, কৃষি পরিস্থিতি, উদ্ভিদের স্বাস্থ্য, শহুরে তাপ প্রভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি ট্র্যাক করতে এই ডেটা অত্যন্ত সহায়ক হবে। একটি উন্মুক্ত তথ্য নীতি অনুসরণ করে, TRISHNA স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্বব্যাপী গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের কাছে সহজলভ্য হবে।
ISRO-এর পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল (PSLV) ব্যবহার করে TRISHNA স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে, যা উন্নত আর্থ-অবজারভেশন মহাকাশযান উৎক্ষেপণে তার প্রমাণিত ট্র্যাক রেকর্ড বজায় রাখবে। এতে দুটি প্রধান পেলোড থাকবে: CNES দ্বারা নির্মিত থার্মাল ইনফ্রা-রেড (TIR) এবং ISRO দ্বারা তৈরি ভিসিবল-নিয়ার ইনফ্রা-রেড শর্ট ওয়েভ ইনফ্রা-রেড (VNIR-SWIR)। একবার চালু হলে, এই উন্নত মিশন প্রাকৃতিক সম্পদ মূল্যায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই জল ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।